আইসিস ইন ডার্কনেস – অনুবাদ

গল্প

আইসিস ইন ডার্কনেস

আইসিস ইন ডার্কনেস

মূল: মার্গারেট এটউড

অনুবাদ: সেলিম মিয়া


ময়লার পাত্র রাখা কাচের বারান্দার পিছনের দিকে হম্বিতম্বি করে যেতে যেতে ম্যারি জো বলেছিল, ‘তাহলে আমি নিজেই ফেলে দিচ্ছি।‘ রিচার্ড তার পিছু পিছু গিয়েছিল। আর তারা মারামারি করেছিল, প্রথমে ফিস ফিস করে।

ম্যারি জো ফিস ফিস করে বলেছিল, ‘আমার বাড়িতে সে কি বাল করছে?’

‘বাড়িটা তো শুধু তোমার একার না। আমারও বাড়ি। তার যাওয়ার কোনও জায়গা নেই।‘

‘ওরা অমনই বলে। কী হয়েছে, কোনও ছেলেবন্ধু মেরেছে তাকে?’

‘আমি জিজ্ঞেস করিনি। সে তো পুরান বন্ধু।‘

‘দেখ, তুমি যদি ঐ আজগুবি মেয়েটার সাথে শুতে চাও, অন্য কোথাও শোয় গিয়ে।‘

তিক্ত মর্যাদার আশা নিয়ে রিচার্ড বলেছিল, ‘তুমি যেমনটা করো?’

ম্যারি জো বলেছিল, ‘কী বালের কথা বলছ তুমি? আমাকে কি কোনও কিছুর জন্য অভিযুক্ত করছ?’ তার চোখদুটো বেরিয়ে আসছিল, যেমনটা আসছিল সে যখন আসলেই রাগান্বিত ছিল, শুধু অভিনয় করেনি। ‘ও, তুমি তো সেটাই চাও, তাই না? গোপনে ঐ কাজ দেখতে তোমার তো শিহরণ জাগে।‘

প্রথম মিথ্যে অভিযোগটা যে ম্যারি জোয়েরই ছিল সেটা তাকে মনে করিয়ে দিয়ে রিচার্ড বলেছিল, ‘যাই হোক, তার সাথে আমি শুতে যাচ্ছি না।‘

ম্যারি জো বলেছিল, ‘কেন নয়? দশ বছর ধরে তার পিছনে ঘুর ঘুর করছ। ঐসব নির্বোধ কবিতা ম্যাগাজিন নিয়ে কত সময় নষ্ট করতে দেখেছি তোমাকে। সেলিনার গভীরতর কণ্ঠস্বরের বর্বর অনুকরণ করে সে বলেছিল, ‘বৃহস্পতিবার করে তুমি একটা কলা। তাকে করে কেন ল্যাঠা চুকিয়ে ফেলছ না?’

রিচার্ড বলেছিল, ‘পারলে করতাম।‘ এ সত্যটা তাকে বিমর্ষ করে তুলেছিল।

‘ও স্বীকার করছ না? কী অবস্থা! আমার একটা উপকার করে দাও। বিনোদন রুমে তাকে ধর্ষণ করে তোমাদের ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসো।

রিচার্ড বলেছিল, ‘আমার, আমার বোনপ্রীতি শক্তিশালী।‘ বলামাত্রই সে বুঝেছিল যে, অনেক দূর গিয়েছে সে।

স্বর সপ্তমে তুলে ম্যারি জো বলেছিল, ‘তোমার তো সাহস কম না যে, আমার নারীবাদকে তুমি ও রকম করে আমার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছ? এত সস্তা এসব! তুমি সব সময়ই সস্তা একটা মানুষ ছিলে!’

দরজার প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেলিনা তাদেরকে দেখছিল। সে বলেছিল, ‘রিচার্ড, আমার মনে হয় চলে যাওয়াই ভালো।‘

আতিথেয়তার প্রফুল্ল প্যারডি করে ম্যারি জো বলেছিল, ‘ও, না। থেকে যাও! কোনও ঝামেলা হবে না! এক সপ্তাহ থাকো! এক মাস থাকো! আমাদেরকে তোমার হোটেল মনে করো!’

রিচার্ড সেলিনাকে নিয়ে হেঁটে সামনের দরজায় গিয়েছিল। বলেছিল, ‘কোথায় যাবে তুমি?’

সেলিনা বলেছিল, ‘ও, সব সময়ই কোথাও না কোথাও জায়গা থাকে। বারান্দার আলোর নিচে দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়েছিল সে। আঘাত ছিল এটা। ‘কিন্তু এ মুহূর্তে আমার কাছে কোনও টাকা নেই।‘

রিচার্ড তার ওয়ালেটটি থেকে সব কিছু বের করে খালি করেছিল। সে কামনা করেছিল আরও যদি থাকত।

সেলিনা বলেছিল, ‘তোমাকে আমি শোধ দিয়ে দেব।‘

আজ বৃহস্পতিবার। এ দিনে রিচার্ডের বিয়ে একেবারে শেষ হয়ে গেলে সে খুঁজে বের করে যে তার কি ডেট করতে হত কিনা। যদিও ম্যারি জো এবং সে ক্ষমা চাওয়া-চাওয়ির মধ্য দিয়ে পার করেছিল, যদিও তারা কয়েক বার মদ পান করেছিল, সিগারেটে পুরে গাঁজা খেয়েছিল, বিচ্যূত হয়েছিল, আবেগহীন যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিল, তবুও কোনও কিছুই ঠিক হয়নি। অতি শীঘ্রই ম্যারি জো তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। গিয়েছিল আত্মানুসন্ধানে যেটা খুঁজে পাওয়া তার প্রয়োজন ছিল বলে সে দাবি করেছিল। তাদের ছেলেকে সে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। রিচার্ড যে তার ছেলের প্রতি তেমন মনোযোগ দেয়নি, সে স্মৃতিকাতর হয়ে মাঝে মাঝে কোনও সপ্তাহান্তে ছেলেকে দেখতে যেত। অন্য কয়েক জন নারীকে চেষ্টা করে দেখেছিল। কিন্তু তাদের প্রতি মনোযোগ বসাতে পারেনি।

সে খুঁজেছিল সেলিনাকে। কিন্তু সেলিনা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এক ম্যাগাজিন সম্পাদক রিচার্ডকে বলেছিল যে, সেলিনা পশ্চিমে চলে গেছে। রিচার্ডের মনে হয়েছিল সে-ই সেলিনাকে ডুবিয়েছে। কোথাও ঠাঁই হলো না রিচার্ডের।

দশ বছর পরে সেলিনাকে আবার দেখেছিল সে। সালটি ছিল ১৯৯০। শূন্যতার আরেক বছর, কিংবা সাদা-গরম ডিমের বছর। দানাদার বোর্ডের টেবিলের ওপর জুড়ে গণকের মতো ফিলিং কার্ডগুলো বিছিয়ে কাকতালীয় এ ব্যাপারটা এখন লক্ষ্য করে সে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে তখনও হাতের আঙুল দিয়ে ধরছিল সেখান থেকে অনেক যানজট পার হয়ে সবেমাত্র সে গাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সময়টা ছিল মার্চের মাঝামাঝি। বসন্তের বরফ গলা সময়। বছরের বিরক্তিকর ও জীর্ণ সময়। শীতের পরিত্যক্ত কাদা, বৃষ্টি ও বর্জ্য ছিল। রিচার্ডের মেজাজ একই ছিল। স্পিরিচুয়াল কার্নালিটি এর পাণ্ডুলিপিটা প্রকাশক তাকে সম্প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছিল। এ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো প্রত্যাখান। কাভার লেটারে তাকে জানানো হয়েছিল যে, টেক্সটগুলোকে সমস্যাকীর্ণ করে তুলতে বেশ ব্যর্থ হয়েছে সে। শিরোনাম পৃষ্ঠায় কেউ একজন হালকা, আধা-মোছা পেনসিলে লিখেছিল, চমকারভাবে রোমান্টিক। এই টানটা জোহানসনের ছিল বলে রিচার্ডের সন্দেহ হয়েছিল। জোহানসন ছিল তাদের একজন রিডার। ম্যারি জো চলে যাওয়ার পর থেকেই সে-ই পাণ্ডুলিপিটা রিচার্ডের জন্য রেখে দিয়েছিল। দৃঢ় চিবুকের একক কপিংয়ের সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ম্যারি জো জোহানসনের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং তারা এক সঙ্গে ছয় মাস ঝটিকা অভিযানে থেকেছিল। তারপর ম্যারি জো জোহানসনের বাড়ির অর্ধেক মূল্য দাবি করতে চেষ্টা করেছিল। সেই তখন থেকে জোহানসন রিচার্ডকে এজন্য দোষারোপ করে আসছিল।

রিচার্ড এটা নিয়ে ভাবছিল। আরও ভাবছিল তার ব্রিফকেসে রাখা ছাত্রদের পেপারগুলো ব্যাচ নিয়ে। ভাবছিল মার্ক্সিট দৃষ্টিকোণ থেকে জেমস জয়েস, কিংবা ছাত্রদের মগজকে আরও হালকা করতে ফ্রান্স থেকে চুয়ে আসা বিভ্রান্ত কাঠামোবাদ নিয়ে।  কালকের মধ্যেই পেপারগুলো দেখে দিতে হবে। কর্দমাক্ত রাস্তায় পেপারগুলো বিছিয়ে সেগুলোর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সন্তোষজনক ফ্যান্টাসি ছিল তার। বলবে যে, দুর্ঘটনা হয়েছিল।

তার দিকে আসছিল ছোট-খাটো, একটু মোটা এক নারী কালো ট্রেঞ্চ কোট পরে। তার হাতে ছিল বড় বাদামি আল্পনা আঁকা একটা ব্যাগ। মনে হয়েছিল বাড়ির নম্বরগুলোর দিকে সে তাকাচ্ছিল। কিংবা চত্বরের সম্ভবত তুষারবিন্দু ও ক্রোকাস ফুলের দিকে তাকাচ্ছিল। রিচার্ড বোঝেইনি যে, সে ছিল সেলিনা যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাকে অতিক্রম করে চলে যাচ্ছিল।

তার বাহু ছুঁয়ে রিচার্ড বলেছিল, ‘সেলিনা।‘

সেলিনা তার দিকে ফ্যাকাশে মুখে তাকিয়েছিল। নীল-সবুজ চোখদুটো হয়েছিল নিস্তেজ। বলেছিল, ‘না, ওটা আমার নাম না।‘ তারপর আরও নিবিড়ভাবে দেখে বলেছিল, ‘রিচার্ড, তুমি?’ হয় সে আনন্দের ভান করছিল নয় সে আসলেই তা বোধ করছিল। আবার, রিচার্ডের জন্য একটু যেন অনভ্যস্ত উল্লাস ছিল।

রিচার্ড অস্বস্তিজনকভাবে দাঁড়িয়েছিল। বিস্ময়ের কোনও কারণ নেই যে, রিচার্ডকে চিনতে সেলিনার কষ্ট হয়েছিল। অকালেই তার চুলগুলো সাদা হয়ে গিয়েছিল। ওজন বেড়ে গিয়েছিল। শেষ, অপ্রীতিকর উপলক্ষে যখন রিচার্ড ম্যারি জোকে দেখেছিল, তখন ম্যারি জো তাকে বলেছিল যে, তার রঙ শামুকের মতো হয়ে গেছে। রিচার্ড বলেছিল, ‘জানতাম না তুমি এখনও এখানে আছ। ভেবেছিলাম তুমি পশ্চিমে চলে গেছ।‘

সেলিনা বলেছিল, ‘ঘুরতে গিয়েছিলাম। ঘোরা শেষ হয়েছে।‘ তার কণ্ঠস্বরে ধার ছিল যা রিচার্ড আগে কখনও শোনেনি।

রিচার্ড বলেছিল, ‘আর তোমার কাজটা?’ সব সময়ই তাকে এই জিনিসটা সে জিজ্ঞেস করত।

সেলিনা হেসে বলেছিল, ‘কোন কাজ?’

‘তোমার কবিতা?’ রিচার্ড আতঙ্কিত হতে লাগছিল। সেলিনাকে সে যতটা না বাস্তববাদী হিসেবে জানত তার চেয়ে বেশি বাস্তববাদী ছিল সে। কিন্তু রিচার্ডের কাছে কীভাবে যেন এ বিষয়টা পাগলের মতো মনে হয়েছিল।

অবজ্ঞাভরে সেলিনা বলেছিল, ‘তোমার কবিতা? আমি কবিতা ঘৃণা করি। এ তো শুধু এই। এটাই সব। এ নির্বোধ নগরী।‘

ভয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল রিচার্ড। কী বলছিল সে, কী করেছিল সে? এটা তো ঈশ্বরনিন্দার মতো, অপবিত্রকরণের কাজের মতো। যদিও যে কাজে সে নিজে নির্লজ্জভাবে ব্যর্থ হয়েছিল সে কাজে সেলিনার বিশ্বাস রক্ষা করার ব্যাপারটা তার কাছ থেকে সে কীভাবে প্রত্যাশা করতে পারে?

সেলিনা ভেংচি কাটছিল। কিন্তু তার মুখাবয়য়ে এখন উদ্বেগের ভাঁজ। রিচার্ডের হাত ধরে বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল সে। ফিসফিস করে বলেছিল, ‘রিচার্ড, আমাদের কী হয়েছে? সবাই কোথায় চলে গেল?’ এক ধরণের কুয়াশা তার কাছে এসেছিল। এসেছিল একটা গন্ধ। রিচার্ড মিষ্ট স্বাদের মদ সনাক্ত করেছিল। সনাক্ত করেছিল বিড়ালের গন্ধ।

সেলিনাকে মর্দন করতে চেয়েছিল সে। চেয়েছিল আলিঙ্গন করে তাকে নিরাপত্তার দিকে নিয়ে যেতে। সেটা যেখানেই হোক না কেন। সে নম্রভাবে বলেছিল, ‘আমরা তো বদলে গেছি। এটাই সব। আমাদের বয়স হয়ে গেছে।‘

সেলিনা এমনভাবে হাসি দিয়েছিল যে হাসি রিচার্ডের মোটেও ভালো লাগেনি। হাসি দিয়ে বলেছিল, ‘আমি তো দেখছি চারপাশের সব কিছুতেই পরিবর্তন ও ক্ষয়। শাশ্বতের জন্য আমি প্রস্তুত নই।‘

সেলিনার হেঁটে চলে যাওয়া পর্যন্ত এটা ঘটেনি। চা পান না করেই সে দ্রুত চলে গিয়েছিল। যেন রিচার্ডকে শেষ দেখা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করতে পারেনি। রিচার্ড উপলব্ধি করেছিল যে, সেলিনা লোকগান থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছিল। এই একই গান কফি হাউজে অটোহার্প সহযোগে গাইতে সে শুনেছিল। সেই রাতেই সেলিনাকে সে প্রথম দেখেছিল। সেলিনা গায়ে ফড়িং অঙ্কিত শাল জড়িয়ে একটা স্পটলাইটের নিচে দাঁড়িয়েছিল।

সেটা এবং স্তব-সঙ্গীত। রিচার্ড ভেবে পাচ্ছিল না তার ছাত্র-ছাত্রীরা যাকে বলে ‘ধার্মিক’ সেলিনা তা-ই হয়ে গিয়েছিল কিনা।

কয়েক মাস পরে সে শুনেছিল যে, সেলিনা মারা গেছে। তখন কাগজের একটা টুকরো ছিল। বিস্তারিত অস্পষ্ট ছিল। শুধু ছবিটাই তার চোখ কেড়ে নিয়েছিল। সেলিনার একটা বইয়ের জ্যাকেট থেকে

তার আগের ছবি। সম্ভবত আরও সাম্প্রতিক কিছু ছিল না। কারণ অনেক বছর হলো সেলিনা কোনও বই প্রকাশ করেনি। তার মৃত্যুও আগের সময়ের। কবিতার ছোট্ট, বদ্ধ জগতের লোকজনও তাকে ব্যাপকভাবে ভুলে গিয়েছিল।

অবশ্য এখন যেহেতু সেলিনা মারা গেছে, সেহেতু সে নতুন করে শ্রদ্ধার পাত্রী হয়েছে। কয়েকটা চতুর্মাসিক পর্যালোচনায় তার প্রতি ঔদাসীন্যের জন্য, তার জীবদ্দশায় স্বীকৃতিকে আটকে রাখার জন্য দেশকে নিন্দা জানানো হয়েছে। তার নামে ছোট একটা পার্কের নামকরণ করার কিংবা একটা বৃত্তি চালু করার একটা প্রস্তাব চলছে। আর শিক্ষাবিদরা মাছির মতো ভিড় করছে। তার কাজের ওর চটি এক খণ্ডের প্রবন্ধ বের হয়েছে, রিচার্ডে মতে যা দায়সারা কাজ, খারাপভাবে কৃত ও ভাসা ভাসা। গুজব আছে যে, আরেকটা খণ্ডের কাজ চলছে।

রিচার্ড অবশ্য এজন্য তাকে নিয়ে লিখছে না। নিজের পেশাগত বিষয় নিয়ে লিখতেও নয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে তো খেদিয়ে দেওয়াই হচ্ছে। নতুনভাবে ব্যয় সঙ্কোচন হচ্ছে। তার মেয়াদ বাড়ছে না। তার মাথা কাজ করছে না। সে লিখছে শুধু এই কারণে যে, সেলিনা এমন একটা জিনিস রেখে গেছে যার মূল্য সে এখনও দেয়, কিংবা তাকে নিয়ে লিখতে চায়। সে-ই তো তার শেষ ভরসা।

সে লেখে আইসিস ইন ডার্কনেস। দ্য জেনেসিস। শব্দ গঠন করতেই তার অনেক আনন্দ লাগে। সেলিনার জন্য সে অবশেষে বেঁচে থাকবে। সেলিনা তাকে সৃষ্টি করবে। মোটের ওপর সেলিনার পুরাণবিদ্যায় তার একটা জায়গা হবে। তবে এক কালে সে যে জায়গাটা চেয়েছিল,  সে জায়গা হবে না। ওসিরিস না, জ্বলন্ত ডানার নীলাক্ষী দেবতাও না। তার জায়গাটা হবে নম্রতর রূপকের। সে শুধু প্রত্নতত্ত্ববিদ হবে। মূল গল্পের অংশ হবে না। তবে এমন একজন হবে যাকে মূল গল্পে অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া যাবে। মরুভূমি জুড়ে, পাহাড়ে পাহাড়ে, জঙ্গলের মধ্যে তার নিজের অস্পষ্ট ও বহুল ব্যবহৃত কারণের পথ খুঁজে নেবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত লুণ্ঠিত ও পরিত্যক্ত মন্দিরকে সে আবিস্কার করবে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া অভয়ারণ্যে, চন্দ্রালোকে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের রানীর দেখা পাবে মেঝের বিচূর্ণ শ্বেত মর্মরে। সে-ই একমাত্র ব্যক্তি হবে অতীতের আকার হাতড়ে যাকে নুড়ি পাথর ছেঁকে আলাদা করে বের করা হবে। একমাত্র সে-ই বলবে যে, এর অর্থ আছে। সেটাও একটা পেশা। এক ধরণের ভাগ্যও হতে পারে।

একটা ফিলিং-কার্ড হাতে নেয় সে। তার সযত্ন লেখায় এর ওপর একটা ছোট করে ফুটনোট লেখে। টেবিল জুড়ে করা কাগজের মোজাইকে পরিপাটিভাবে প্রতিস্থাপন করে। তার চোখে ব্যথা করে। চোখ বন্ধ করে সে। তার জ্ঞান ও দক্ষতার যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাকে স্মরণ করে কপালটা তার বদ্ধ মুষ্টির দু’হাতে রাখে। সেলিনার ভাঙা ভাঙা অংশগুলো জোড়া দিয়ে অন্ধকারে তার পাশে নতজানু হয়ে থাকে।

*** পরিসমাপ্তি***


৪র্থ পর্ব

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*